Monday, July 18, 2011

খনন

অনেকদিন হল এখানে বসবাস

আলো বাতাসের ভাগাভাগি

একবার ঘুরে এলে হয়না বাঁশবন পুকুরপাড়

অনেকটা আকাশ দিগন্তের মাঠ

বর্ষায় মাটিও বেশ নরম

খুঁড়ে তুলতে কষ্ট হবেনা চাপাপড়া গল্প


ভিজতে ভিজতে দরমার বেড়া ঠেলে বসে যাব

কোন মাটির বাড়ির দাওয়ায়

পাশেই পোষা কুকুরটা কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে

খবর পেয়ে পচা হরি দুখী হাজির হবে

মনের আঁধার থেকে তুলে আনব

ভাঙ্গা শালতি সঙসাজার শণনুড়ি

চড়ুইভাতির ফুটো হাঁড়ি...


নিজেদের আড়াল করে

সুখী সাজার খেলাটা তো ভালই শিখে গেছি

একবার নাহয় ভুল করেই চলো

বালিতে বাঁধাঘরের নিপাট সংসারে

ভোরে ঘুম ভেঙ্গে দৌড়ে যাব ঘাটে

সূর্যটাকে জলে ফেলে ধুয়ে নেব মুখ

ঝকঝকে দিনটাকে ফিরে পাই যদি





Monday, June 20, 2011

বিস্ত্রৃত অপেক্ষার ছায়া

ছাইরঙা বিকেলটা ঝুপ করে ফাঁকামাঠে নেমে এলেই

শীতবেলার অবসান

কুয়াশায় মুখ ঢেকে হিমজোসনা খুঁজে বেড়ায়

নীলশামুকের দিন

বিস্তৃত অপেক্ষার ছায়া ফেলে যায়

অপূর্ণ স্বপ্নচর


শ্রাবনে ঋতুমতী হয়নি যে নদী

জমে ওঠে তারই বাঁকাদহের কাহিনী

পাতার আগুন ঘিরে হারানো ইতিকথা


নদীনাম তার মুছে গেছে বহুদিন

রয়ে গেছে বালিচর

ছড়ানো ছিটানো কয়েকটা বাবলার জন্মভূমি

তবুও বিকেলের নিভু নিভু রোদ ওখানেই ছাইরঙ হয়

অপূর্ব স্বপ্নের মায়ায়


কিসের মায়াজাল জানেনা সে নদী

শুধু সমুদ্রসন্ধানে মুঠো মুঠো বালি

বুকে ধরে রাখে

Friday, June 17, 2011

অপেক্ষমান

ঠা ঠা দুপুরে একপায়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষমান রোদ্দুর

বাতাসে ভাসে--

তুলোয় জড়ানো ফাটা শিমূলের বীজ

উপেক্ষিত আশা খুঁজে বেড়ায়

সূচনার ভূমিকা

নৈশব্দের ধারাপাতে স্তব্ধ যখন শব্দের অরণ্য

শতাব্দীর নিভৃত বাসনা

নীলখামের আগল খুলে

ছড়িয়ে পড়ে ইতস্ততঃ

বিস্মৃত ইতিহাসের পথ ধরে ফিরে আসে

জংগলের অতীত

জুম চাষে মত্ত হ্য় যাযাবর জীবন

তথাপি সেই বটের মূল পাখির পায়ের ছাপ

ধরে রাখে অপেক্ষার অধ্যায়

এখনও যেখানে একলা দুপুর ঠা ঠা রোদ্দুর

শিমূলবীজের জন্মান্তর

নাবিক


কত নক্ষত্রযুগ পার হয়ে এসে এখনও তুমি জানলে না

তোমাকে ভালবাসাটা নেহাতই একটা ভান

আমি তৃপ্ত নই এক সমুদ্রে

তাই ভারত-প্রশান্ত-অতলান্তিকে আমার নিত্য আনাগোনা


প্রতিটি শুক্লপক্ষের সন্ধ্যায়

আমি ফালা ফালা করে কাটি

এক একটি কিশোরী চাঁদ

স্খলিত পায়ে বাথরুমের দরজায় আগল দিয়ে

অট্টহাসিতে মেতে উঠি


চাঁদহীন রাতকে আমার ফ্যাকাসে মনে হয়

তবুও চাঁদের উপমা খুঁজি না

তারাদের ঘৃণা করি


নগন্য এক বন্দরের নাবিক

জোনাকির আলোতেই ডুবে থাকি

তুমি ধ্রুবতারা হতে চেও না

Tuesday, February 9, 2010

অন্য পরিচ্ছেদ

শীতার্ত রোদ বেয়ে আবাসনের মাথায় আকাশ
হাতের মুঠোয় একখন্ড সাদা মেঘ
অনাবিষ্কৃত একটা দ্বীপ
নীলজলের ফ্রেমে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতায়
জ্বালাধরা চোখ ধুয়ে নিতে একবার
গ্রীলের ফাঁক গলে ছোঁয়ার অভিলাষ

শিকলছেঁড়া যত ইচ্ছার অনুশাসন
দুদিকের ওভেনে স্বপ্নের বুদবুদ
ভাতের ফেন ও নীল ধোঁয়া
বেসিনের জলে হলুদ প্রক্ষালন
দু একটি ইঁটে সযত্নে গেঁথে চলা
প্রত্যাশার খিলান

অস্তিত্বের প্রবাসে অন্য পরিচ্ছেদ
দূরতম দ্বীপ হয়ে অতীতের রান্নাঘর
অদৃশ্য ফোড়নের নীল ধোঁয়া
মধ্যরাতে ফেরে মার্সিডিজ
সাফল্যের নিঃশব্দ প্রবেশ
পিঠময় অর্থকরী নুনজমা সুখ

সূচনা

আমার নতুন অধ্যায়ের সূচনায় প্রথম পরিচ্ছেদ
পাঁচিলের গায়ে শুকনো শেওলায়
বিকেলের রোদ আর আমি
কতদিনের সুখিদুখি সংলাপের ভাগাভাগি
বারান্দার পুরনো সোফার হাতলে প্রত্যাশিত অবসর
সময়ের অন্তিম আকাঙ্খার বিলম্বিত পল

উড়ন্ত এক আরশোলা শিশু
শেওলার খাঁজে খোঁজে আশ্রয়
অস্থির উন্মাদনায় দেখি গ্রিলের কিনারে সেই টিকটিকি
নিশ্চল...
কি জানি কতদিন পরে দেখেছে পতঙ্গ
খন্ডযুদ্ধের আগেই নিজেকে সরিয়ে নিই
কালিতে ভরাই সাদা পাতা

Monday, December 7, 2009

Bratyo


ব্রাত্য

সূর্যবংশজাত আর্যের বিকিরণ

অধিরথের স্নেহডোরে নিজেই সে ব্রাত্য

মুরার স্বপ্নে জাগে যে মৌর্য

উত্তাধিকারে তার---

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি...

বরফ ভেঙে বয়ে যায় নতুন সূর্যের খোঁজে

পূর্বদিশায়

দীপ্তপ্রভাহীন প্রদীপের পাদদেশ--

মাটির গর্ভে কয়েক খণ্ড লৌহ আকর

অরণ্যের গভীরে ঘটায়

কলঙ্কিত সালভা জুডুং...

ইতিহাস গোপন করে

রাতের শ্লেটে ধরিত্রি লিখে রাখে

গুপ্ত কবরের সংখ্যা