Wednesday, October 31, 2012

খড়িমাটি


ঢেউয়ে ভাঙ্গে চাঁদ
রূপোর মুকুরে রূপ দেখে রাত
আমি মোহনায় খুঁজি খড়িমাটি

থেমে গেছে চখিদের ডাকাডাকি
থির নদীর তিরতির
কল্পনার আলপনায় চোরাবালি

ফেরারী ফেরিওলা নিয়ে গেছে

জংধরা জঞ্জাল ভাঙাকাঁচ
ক্ষয়িষ্ণু জীবনের খড়িমাটি

Sunday, October 28, 2012

কিংবদন্তীর মা


কোজাগরীর শেষরাত.....ওরা নিদ্রামগ্ন
কুয়াশায় মুখ ঢেকে আসে সেই মা
ধানের শিষে আশীষ ঝরিয়ে নিশ্চুপে চলে যায়

ওদের ছিল ভিক্ষার বিলাস—
খরায় চৌচির মাঠে মা ধরেছিল কোদাল
হাতে ঝুরোধান কণ্ঠে আকুতি---

-তোরা আলিস ভাঙ

ওরা বলেছিল তুমি ডাইনী...
কবর খুঁড়ছো ওদের...
তাই ওই মাটিতেই তোমার জীবন্ত সমাধি

বর্ষায় কোপানো মাটিতে ফলেছিল ঝুরোধান
ওরা স্তম্ভিত....
আলিস ভেঙে ধরেছিল লাঙ্গল কোদাল

কেটে গেছে কত যুগ....
আজও সারারাত জেগে ওরা ডাকে মাকে
শেষরাতে ঘুমিয়ে পড়লে আসে--- কিংবদন্তীর মা

সাক্ষী রেখে নিমগোঠের জঙ্গল...
ঢলেপড়া চাঁদ
লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ এঁকে যায় মা

ঝিঁঝিঁর সুরে সানাই বাজে
ধানের শিষে অঞ্জলি দেয়
আলিস ভাঙ্গার মাঠ

Sunday, October 21, 2012

মোহ


হিমেল বাতাস ন্যুব্জ ধানশীষ বেয়ে
নিয়ে এল শীত
দু’একটি শেফালি তখনও অমলিন
কারো শিমূলমন কুসুমিত হতে চায়

ঝিমরোদের ওমে বোষ্টুমী বাঁধে খোপা
নিমডালে ঝোলে তার একতারা
গাঁদাফুল ফিক করে হাসে
রাধামাধব খোঁজে নতুন সঙ্গিনী

নামাবলির মোহ ছেড়ে যাবে সে
ফাগমেলায় কেউ জানবে না
কার হল অভিষেক
কণ্ঠীবদলে হল চিরন্তন রাইমণি

প্রত্যাশা


প্রত্যাশা একই বৃত্তে ঘোরে
বাদামী হতে চায় শেষবেলায়
আমি সবটুকু শুষে নিই
অস্ত যাবার আগে যতটুকূ থাকে অবশেষ

সবুজে হলুদ আভা এসেছিল আগেই
ঝরে বাদামী
মন তবুও তুলি ধরে
হালকা সবুজ আর লালের মিশেলে
ছবি আঁকে

আমি একঠাঁই বসে থাকি
বিবর্ণ হওয়ার আগেই শুষে-নেওয়া রঙ
উপুড় করে ঢেলে দিই

Sunday, December 18, 2011

প্রান্তিক জীবনে

শিরশিরে বাতাস আর হলুদ পাতা

এখনও ঢেউ তোলে

স্মৃতির শৈশবে


বালিহাঁস বলাকার বৈকালিক উড়াল

ডানাজুড়ে কমলার মিশালি

মোহনার ঝুরোধানে বাবুইয়ের আসরে

কুবোদের কুব কুব


ফলেফুলে খিড়কি বাগান

রূপকথার জোড়াপাখি

স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে এখনও ছুঁয়ে যায়

নুয়েপড়া বাঁশের ডগা


প্রান্তিক জ়ীবনে

দখিনের জানালা গলে চিলতে আকাশ

বিস্তারিত হতে হতে

দিগন্তপারে খুঁজে পায়

একটা ছেঁড়া কাগজের নৌকা

Thursday, December 8, 2011

ক্রমশঃ

আবারও একটি দিনের অবসানের প্রতীক্ষা

আর অজানা সেই শূণ্যের পথে

আমার ক্রমশঃ পরিক্রমা


সেপথের পাশে নেই বুনোঝোপ

শৈশবের হারানো পুটুস

ভাঙাচোরা মাটির বাড়ি

নদীর ঘাটে যাবার মেঠোপথ

শীতের বিকালে বালিচরে কয়েকটা বক

সন্ধানে যাদের

দাঁড়কোণা ... নীলশামুক


দিগন্তের ওপারে তখনও সূর্য কমলা

কারা ওই নেমে এল বকচরে

হাতে কোদাল কাঁধে শব

অন্ধকার গায়ে মেখে ফিরে গেল


অক্ষরেখায় শেষ হয় আর একটি পাক

শ্রান্ত মহাকাল তুলে রাখে

ভুল হিসাবের খাতা

Saturday, November 12, 2011

জীয়নকাঠি

ধুলোওড়া আকাশে মেঘ জমলে চেয়ে দেখে

তেপান্তরের মাঠ

জেগে ওঠে ধ্রুপদী রূপকথার

ক্লান্ত হীরামণ


অকালযাত্রায় বিস্মিত হয়

ব্যাংগমীদের স্বপ্নতরু

পক্ষীরাজের দানার ঝাপটে সরে যায়

অলীক যাদুজাল

প্রান্তরের খরাবুকে ঝরে পড়ে

নীল মায়াবৃষ্টি

ক্যাকটাসের কাঁটায় কাঁটায় সুগন্ধিত

হলুদ সাদা ফুল


চিরন্তন এই মিথ....


রাক্ষসপুরীতে একটাই মানুষ

অনন্তকাল ধরে খুজে বেড়ায় তার স্বপ্নময়ী

ঘুমন্ত রাজকন্যা

তারই মাঝে যে লুকানো আছে

জেগেওঠার জীয়নকাঠি